মিডিয়ার মেয়ে মানে গালি ?

foring974 নারী, সমাজ

বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশী বেশ্যা কিংবা মাগী বলে গালি দেয়া হয় কোন মেয়েদের ? এই প্রশ্নটার উত্তর আমাকে কঠিন রকম ধাক্কা দিয়েছে। প্রচণ্ড অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম এদেশে সব চেয়ে বেশী গালি দেয়া হয় অভিনেত্রী কিংবা বিজ্ঞাপনী মডেল নারীদের !

 

সম্ভবত মেয়েটির নাম টয়া। এই মেয়েটিকে প্রথম অবিস্কার করলাম কোন একটা মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে। শ্যামা মেয়েটা আমার কাছে অন্য সব হালের মডেলদের মতই মনে হল কিন্তু ভিডিওটার নিচে গালির অন্ত নেই দেখে কৌতূহলী হয়েই ওর নাটকগুলোর কমেন্ট সেকশন দেখতে শুরু করলাম এবং সব যায়গাতেই সেই একই ধরনের অনেকগুলো কমেন্ট দেখলাম !
টয়া শুধু একা না, এই তালিকায় কম বেশী সবাই আছে। নাটকের চেয়ে নাটকের অভিনেত্রীর ব্রার ফিতা দেখা গেল কিনা, অভিনেত্রীর গায়ের রঙ কাল, কোমরের ভাঁজ দেখা গেল, বয়স কত, তার সাইজ, এসব নিয়েই এক শ্রেণীর, শ্রেণিহীন দর্শকের আগ্রহই বেশী। এবং আশ্চর্যের বিষয় এরা কলেজ/ভার্সিটির গণ্ডী পার হওয়া মানুষ! তাদের অবদমিত যৌনতার প্রকাশ হিসেবে তারা কি কি করতে চায় তার ফিরিস্তি লিখেছে কমেন্ট অপশনে ।

প্রশ্ন হল কেন ?
কারন বাংলাদেশে অন্তত এই একটা সেক্টর আছে যেখানে মেয়েরা পেশাগত কারনেই যথেষ্ট স্বাধীন। পোশাক থেকে শুরু করে সঙ্গী নির্বাচন কিংবা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এরা অন্য সকল পেশা থেকে অনেক বেশী স্বনির্ভর। তার মানে এই না যে এখানে মেয়েদের উপড়ে অন্যায় হয় না, তবুও প্রতিবাদের ক্ষেত্রে এই মেয়েরা অন্য সব মেয়েদের থেকে অনেক বেশী সোচ্চার।

প্রভা মেয়েটা কে আমি সম্মান করি । এত বড় একটা প্রতারণার স্বীকার হয়েও সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হার মানেনি, যুদ্ধটা চালিয়ে গেছে। মেয়েটা গুণী অভিনেত্রী এবং আত্ম নির্ভরশীল। কোন দুর্ঘটনায় জীবন যে আসলে শেষ হয়ে যায় না, সেটা এই মেয়েটা প্রমাণ করে দিয়েছে। যেখানে তার সাহসিকতা তার হার না মানা মানিকতার প্রশংসা পাওয়া উচিৎ, সেখানে সে এখনো শুনে যায় জঘন্য সব গালিগুলো। অথচ যে ইতরটা ভিডিওটা প্রচার করেছিল তার বিচার তো হয়নি বরং সে দিব্বি ভালই আছে ! কি অদ্ভুত !

মিথিলা তাহাসানের সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। মিথিলা যদি আর একটি সম্পর্কে জড়ায় তবে তার জন্য যে কি কি কমেন্ট অপেক্ষা করছে সেটা অনুমান করতেই পারি।

এ দেশে সাইবার বুলিং এর জন্য কত আইন আছে কিন্তু এই যে অভিনেত্রীদের নিয়মিত গালিগালাজ করা বরাহদের কেউ কখনো এই আইনের আওতায় পরেছে বলে শুনিনি । কিন্তু কেন ? এই সমাজ ধরেই নিয়েছে এখানে অভিনেত্রীরা গালি খাবে , তাদের সাথে কোন অন্যায় হলে সেটাই স্বাভাবিক। ভাবখানা এমন, মেয়ে যেহেতু মিডিয়াতে গেছে সেখানে এ সব হবেই।

একজন অভিনেত্রীকে তার গুনের সম্মান দেয়া কি খুব কঠিন? তার অভিনয় ভাল না খারাপ সেটা নিয়ে আলোচনা হোক , তার পোশাক কিংবা তার ব্যক্তি জীবন নিয়ে কেন কথা বলতে হবে ? আর এত যদি তাকে খারাপ লাগে তবে তার অভিনয় তার বিজ্ঞাপন দেখা বন্ধ করুন। আর তাতেও না হলে ডাক্তার দেখান। যৌন রোগ পুষে এত কষ্ট পাবার কোন মানে হয় না । নিজেও ভাল থাকুন, আপনার চারপাশও ভাল রাখুন।

You May Also Like..

কে বলে নারী রাজাকার ছিল না ?

  মার্চ ২৩ , ১৯৭২ সালে দৈনিক পূর্বদেশ(বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস এ সংরক্ষিত)   পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় ,তৎকালীন অর্থ […]

বিষণ্ণতা..

জ্বর , ঠাণ্ডা না, সারা পৃথিবীর সব চেয়ে বেশি এবং প্রচলিত রোগটার নাম ডিপ্রেশন। বাংলায় যাকে বলে বিষণ্ণতা । আরও […]

৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন নারীর সম্ভ্রম/সম্মান নষ্ট হয়নি ……।

৭১ থেকে ২০১৫ , গত ৪৪ বছর ধরে আমরা শিখেছি, শুনেছি, জেনে আসছি যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ লক্ষ নারীর ইজ্জতের […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *