বিষণ্ণতা..

foring974 ফেইসবুক কলাম, সমাজ

জ্বর , ঠাণ্ডা না, সারা পৃথিবীর সব চেয়ে বেশি এবং প্রচলিত রোগটার নাম ডিপ্রেশন। বাংলায় যাকে বলে বিষণ্ণতা । আরও সহজ করে বললে ‘ভাল্লাগেনা’ রোগ। ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে যেদিন থেকে চাকরি শুরু হয়, সে দিন থেকে জীবন বলে আসলে কিছু থাকে না । সকাল ৯ টায় বের হয়ে রাত ৮টায় বাসায় ফিরে কেউ জীবন উপভোগ করতে পারে না । এটা স্রেফ ঘানি টানা জীবন ছাড়া আর কিছু না ।
এদেশে একজন চাকরিজীবী কে জিজ্ঞেস করে দেখেন, শেষ কবে একটা বই পড়েছে, কবিতা পড়েছে , কিংবা শেষ কবে প্রিয় মানুষটির সাথে একটা শুভ্র সকাল পার করেছে। দেখবেন হিসাবে গড়মিল হয়ে গেছে। নিজের জন্য দেবার মত কোন সময় তার নেই। তাই ছুটির দিনগুলোতে সামাজিকতা, ঘুম, ফেইসবুক , বাসার কাজ, কিংবা গেইমস খেলাই তার একমাত্র বিনোদন । চাকরিজীবী বিবাহিতা মেয়ে হলে ছুটির দিন যায় সংসার আর সামাজিকতা করে, আর গৃহিণী হলে ছুটির দিন মানে স্বামী বাসায়, তার বন্ধুরা বাসায় , আত্মীয়রা বাসায়, এই সব সামাজিকতায় নিজের জন্য তার কিছু থাকে না।
তখন তারা ভুলে যায় এর বাইরেও একটা জীবন আছে।
বোদলেয়ার এর কবিতার নেশা করা জীবন, একটা কাফকায় হারিয়ে যাওয়া জীবন, ভবঘুরে হওয়া জীবন , একটা বাকেট লিস্ট করে বাকেট ভর্তি আনন্দ জমানো জীবন। দুজন দুজনার জীবন। ভালবেসে ভেসে যাওয়া জীবন।

এই যে নিজেদের সময়গুলো যখন খুচরো করে সামাজিকতা , জব , পারিবারিক জীবনে দিয়ে দেয়া হয় তখন মনের খোরাক বলে কিছু থাকে না । মন শূন্য হয়ে যায় , সেখানে বাসা বাঁধে বিষণ্ণতা ।
তখন বৌ আগের মত হাসে না , স্বামীট আগের মত একগুচ্ছ গোলাপ আনে না কিংবা সকালের চুমুগুলো হঠাৎ ঘড়ির কাটা হয়ে যায় । অভিমান জমতে শুরু করে ।
কেন দাও না ? কেন দিচ্ছ না , বদলে গেছ, বদলে যাচ্ছ, বদলে গেছিতে ঝগড়া শুরু আর এর শেষ কখনো ভাঙনে কখনো কম্প্রোমাইজে । সেখানে হারিয়ে যায় প্রেম আর যায়গা করে নেয় বিষণ্ণতা।
জীবনটা যেহেতু নিজের এবং দুজনের , তাই সময় বের করে নিতেই হবে , অফিস গেলে অফিস মিলবে কিন্তু প্রিয় সময় আর প্রিয়জন হারিয়ে গেলে তা আর ফিরবে না । তাই প্রিয়জনের , প্রিয় সময়গুলোর যত্ন করতে হয় । নিজেদের সময়গুলো কোন ভাবেই খচুরো করে ভাগ করে দেয়া যাবে না ।
হোন একটু স্বার্থপর, আত্মীয়দের বলুন আপনি অসামাজিক, তাদের রাগ আপনার নিজেকে দেয়া সময় থেকে গুরুত্বপূর্ণ না। পাশের মানুষটির খেয়াল রাখুন, তাকে সময় দিন । নিজেকে সময় দিন । হুট করে ঘুরে আসুন যেখানে ইচ্ছে সেখান থেকে। বয়স ভুলে যান , স্কুলের সময়গুলোর কথা মনে করুন ।কি কি প্ল্যান ছিল মনে করুন।প্রিয় মানুষটিকে দেয়া প্রতিজ্ঞাগুলো মনে করে দেখুন । তাকে তার হাসি ফিরিয়ে দিন আর নিজেকে নিজের কাছে ফিরতে দিন । যে জীবন বিষণ্ণ সে জীবন আসলে মৃত । মৃত মানুষের মত বেঁচে থাকার চেয়ে স্বার্থপর অসামাজিক , পড়ুয়া , ভবঘুরে , প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা হয়ে বেঁচে থাকা ভাল নয় কি ?

You May Also Like..

মিডিয়ার মেয়ে মানে গালি ?

বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশী বেশ্যা কিংবা মাগী বলে গালি দেয়া হয় কোন মেয়েদের ? এই প্রশ্নটার উত্তর আমাকে কঠিন রকম […]

অধমের আলো

              আমাদের বন্ধুত্বের কোন জাত ছিল না, কোন একটা পরিচয় হয়ত দেয়া যায় , […]

ইগো…

“ইগো” নামের অনুভূতিটা না থাকলে পৃথিবীটা আসলে আরও একটু সুন্দর হত । সম্পর্কগুলো সহজ হত। ভালবাসাগুলো বেঁচে থাকত। অন্তত আত্মসম্মান […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *